নোটিশ :
সারা দেশে সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে "দৈনিক ভোরের হাওয়া" দ্রুত বর্ধনশীল অনলাইন সংবাদমাধ্যম Daily Bhorer Haoa সারা দেশে জেলা, উপজেলা ও ক্যাম্পাস পর্যায়ে প্রতিনিধি (সাংবাদিক) নিয়োগ দিচ্ছে। যারা সাংবাদিকতায় আগ্রহী, সংবাদ সংগ্রহ ও লেখালেখিতে দক্ষ এবং সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে চান—তাদের জন্য এটি একটি ভালো সুযোগ।
সংবাদ শিরোনাম:
চামড়া খাতের বিপর্যয় ও উত্তরণের পথ কোরবানির ঈদের অনবদ্য কারিগর: এক দিনের কসাইদের আকাশছোঁয়া কদর কুরবানীর অর্থনীতিতে চাঙ্গা গ্রামবাংলা এক লাখ কোটি টাকার প্রবাহে নতুন গতি পেল দেশের স্থানীয় বাজার ​ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত ঈদুল আজহা ​— আরবের ঐতিহ্য, পাশ্চাত্য বাস্তবতা ও বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট ​ঈদ-উল-আযহার আলোয় মোহাম্মদপুর-আদাবরে অনাগত দিনের নতুন প্রতিশ্রুতি: শারিয়া মোস্তাফিজ সিমির ঈদ বার্তা! ডিএনসিসির পশুর হাটের ইজারা: নিয়ন্ত্রণে বিএনপি নেতাদের একচেটিয়া আধিপত্য ​ত্যাগের মহিমায় দেশবাসীর পাশে: ইশতিয়াক আহমেদের ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ​ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন মনোয়ার হাসান জীবন ভালুকাবাসীর সুখ-সমৃদ্ধি কামনায় ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব হাতেম খান পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালো মোহাম্মদপুর প্রেসক্লাব
মৌলভীবাজারে সৌন্দর্য্য ধ্বংসকারী পাহাড় টিলা কেটে সাবাড় কতৃপক্ষ নির্বিকার

মৌলভীবাজারে সৌন্দর্য্য ধ্বংসকারী পাহাড় টিলা কেটে সাবাড় কতৃপক্ষ নির্বিকার

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ,শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাকৃতিকভাবে চায়ের রাজ্যে খ্যাত পর্যটকদের যেমন সৌন্দর্যের প্রতিক তেমনি টিলাভূমি ও সিলিকা বালু সমৃদ্ধ পাহাড়ি ছড়া কেটে নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে।

প্রকাশ্য দিবালোকে ব্রিজের নিচ থেকেও পলিমাটি কেটে স্থানান্তর করা হচ্ছে ট্রাকযোগে পাশাপাশি টিলা কেটে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে ব্যবসার নামে রিসোর্ট কটেজ। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ। প্রতিনিয়ত এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলেও উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝে মধ্যে নিয়ম করে অভিযান করলেও তারপরও যেন নির্বিকার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের ছয়ঘড়ি নামক এলাকায় দিবালোকে স্থানীয় বাসিন্দারা অবৈধভাবে ভেকু মেশিন লাগিয়ে প্রাকৃতিক টিলার লাল মাটি কেটে স্থানান্তর করছেন। স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রাকৃতিক টিলার ব্যাপক অংশ কেটে সমতলে পরিণত করছেন। অন্যদিকে আলীনগর ইউনিয়নের সুনছড়া চা বাগানের টিলাভূমি রয়েছে প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান। তবে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক টিলাভূমি ও পাহাড়ি সুনছড়ার বাঁধ কেটে অব্যাহতভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের মাধ্যমে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিনিয়ত ট্রাক, পিকআপ ও ট্রলিযোগে প্রতিনিয়ত সিলিকা বালু বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল মাঝে মধ্যে অবৈধ বালুবাহী ট্রাক আটক করলেও প্রশাসন নিরবতা পালন করছে।

শমশেরনগরের সমাজকর্মী এনামুল হক শামীমসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে সুনছড়া থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালুবাহী একটি ট্রাক জনতা আটক করে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে রেখেছে। বিষয়টি ইউএনও সাহেবকে অবহিত করা হলেও দু’দিন যাবৎ ওই গাড়ির বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

এদিকে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর এলাকায় ধলাই নদীর উপর স্টিল ব্রিজের নিচ থেকে অবাধে পলি মাটি কেটে ট্রাকযোগে স্থানান্তর করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে নদীর বাঁধ ও ব্রিজের নিচ থেকে মাটি উত্তোলন করে নিচ্ছে। ফলে ব্রিজটি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। যেকোনো সময় ব্রিজ ধসে পড়তে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। এসব বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টিলা কাটা, পাহাড়ি ছড়া ও ছড়ার পার্শ্ববর্তী স্থান কেটে সিলিকা বালু উত্তোলন করে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

অপরদিকে পাল্লা দিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ডলুবাড়ি, রাধানগর এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি বিহীন টিলা,পাহাড় কেটে পরিবেশ বিধ্বংসী রিসোর্ট কটেজ এর ধ্বংস করা হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভড়া পর্যটনের অপার লীলাভূমি।

এভাবে অবাধে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রমের বিষয়ে কলেজ শিক্ষক জমশেদ আলী, পেশাজীবি সোলেমান মিয়া, চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীনসহ স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের অবহেলার কারণে উপজেলার প্রাকৃতিক অনেক দর্শনীয় স্থান নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশ ও আশপাশ রাস্তাঘাট, কৃষিজমি, ব্রিজ-কালভার্ট হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ইসলামপুর ইউনিয়নে টিলা কাটার বিষয়টি অবহিত হয়েছি। বিষ্ণুপুরে ব্রিজের নিচ থেকে মাটি কাটা ও সুনছড়া থেকে সিলিকা বালু উত্তোলন বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে মৌলভীবাজার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে এর আগে ও তিনি অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করলেও চোখে পড়ার মত কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি আজও।এসব বিষয়ে স্থানীয়দেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক ভোরের হাওয়া © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com